সোনার বাংলা ২৪.কম : রাজনৈতিক

সংবাদ শিরোনাম
লোডিং...
Menu
রাজনৈতিক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
রাজনৈতিক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক আজ

নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক আজ

 

ছবিঃ সংগৃহীত 

মোহাম্মদ আব্দুর রশিদ 📝 


বঙ্গভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেয়ার পর রোববার প্রথমবারের মতো অফিস করেন নবগঠিত সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা। দায়িত্ব নেয়ার পরপরই গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তাদের কণ্ঠে উঠে এসেছে আগামী দিনগুলোর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার দৃঢ় প্রত্যয়। আসন্ন রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা কাঠামো কিংবা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি, সবকিছু নিয়েই মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা জানিয়েছেন ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা।

সেসব লক্ষ্য অর্জনে আজ সোমবার (১৫ জানুয়ারি) প্রথমবারের মতো নয়া সরকারের মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ওই বৈঠক হবে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।

এর আগে গত ১১ জানুয়ারি বঙ্গভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেন সরকারের ২৫ জন মন্ত্রী ও ১১ জন প্রতিমন্ত্রী। পরদিন ১২ জানুয়ারি সরকারপ্রধানের সঙ্গে ধানমন্ডিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান তারা। পরে একই দিনে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ইশতেহারে প্রধান স্লোগান ছিল ‘স্মার্ট বাংলাদেশে’ নির্মাণ। নতুন মন্ত্রিসভার শপথের পরদিন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের নিজেও বলেছেন, রাজনৈতিক, কূটনৈতিক এবং অর্থনৈতিক- এই তিন চ্যালেঞ্জই শেখ হাসিনার নতুন সরকারকে আগামীতে মোকাবিলা করতে হবে। তবে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে সেই চ্যালেঞ্জ বাস্তবায়ন যে সহজ হবে না তা-ও জানিয়েছেন তিনি।

গত বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের ৩ ধারা অনুযায়ী প্রথমেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শপথবাক্য পাঠ করান। এর মধ্যদিয়ে টানা চতুর্থবারের মতো সরকারপ্রধানের দায়িত্ব নেন শেখ হাসিনা। পরে দ্বিতীয় ধাপে শপথ নেন ২৫ জন মন্ত্রী। এরপর ১১ জন প্রতিমন্ত্রী শপথ নেন।
 
 নির্বাচন বর্জনকারীরা বিদেশি বন্ধুদের দিকে তাকিয়ে আছে : ওবায়দুল কাদের

নির্বাচন বর্জনকারীরা বিদেশি বন্ধুদের দিকে তাকিয়ে আছে : ওবায়দুল কাদের

report

ছবিঃ সংগৃহীত 


নির্বাচন বর্জনকারীরা বিদেশি বন্ধুদের দিকে তাকিয়ে আছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

শনিবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন।

কাদের বলেন, যারা নির্বাচন বর্জন করেছে তারা নতুন করে ষড়যন্ত্র করছে। এ সরকারকে হটাতে তারা বিদেশি বন্ধুদের দিকে তাকিয়ে আছে। তারা আশা করছে কম্বোডিয়ার মতো নিষেধাজ্ঞা আসবে।

তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা কোনো নিষেধাজ্ঞা, কোনো ভিসা নিষেধাজ্ঞার পরোয়া করেন না। ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’ এই নীতিতে শেখ সরকারের কার্যাবলী পরিচালিত হবে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, রাজনীতিতে কেউ সন্ত্রাস ও অস্থিরতা তৈরি করলে মোকাবিলা করতে হবে। বিরোধীদলকে রাজনীতি দিয়ে মোকাবেলা করতে হবে।

ইশতেহারের বিষয়ে তিনি বলেন, ইশতেহার বাস্তবায়ন করায় আমাদের মূল চ্যালেঞ্জ। অনেক বাধা আসতে পারে। কারণ যারা নির্বাচন বর্জনকারীরা নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু করে দিয়েছে।

এর আগে, সকাল ৯টায় সড়কপথে ঢাকা থেকে রওনা হয়ে বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে গোপালগঞ্জে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী ও নতুন মন্ত্রীসভার সদস্যরা। পরে বেলা পৌনে ১২টার দিকে বঙ্গবন্ধু সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান তারা।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে টানা চতুর্থবারের মতো সরকার গঠনের পর এই প্রথম নিজ জেলা গোপালগঞ্জ গেছেন শেখ হাসিনা।

সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বিকেলে টুঙ্গিপাড়ায় আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এরপর শনিবার নিজ বাড়িতে রাত্রিযাপন করবেন। পরদিন রোববার কোটালীপাড়ায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। সেখান থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন।
মাদারীপুরে প্রথম নারী এমপি হলেন তাহমিনা

মাদারীপুরে প্রথম নারী এমপি হলেন তাহমিনা

সোনার বাংলা.২৪

ছবিঃ সংগৃহীত 

সংরক্ষিত নারী আসন থেকে এবার মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ঈগল প্রতীকের মোসা. তাহমিনা বেগম। তিনি মাদারীপুর জেলার প্রথম নারী সংসদ সদস্য।

কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং এই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ড. আবদুস সোবহান মিয়া গোলাপের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে লড়াই করে বিজয়ী হন স্বতন্ত্র প্রার্থী কালকিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি তাহমিনা বেগম।

বেসরকারি ভাবে বিজয়ের পরে রোববার (৭ জানুয়ারি) রাত ১১টার দিকে গণমাধ্যমে কথা বলেন তাহমিনা বেগম।

এ সময় তাহমিনা বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যের প্রতীক হিসেবে এই জয় হয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায় থেকে শুরু করে উপজেলা সবখানে অন্যায়কে বিতাড়িত করার জন্য সাধারণ জনগণও ঐক্যবদ্ধভাবে ঈগল প্রতীকে ভোট দিয়েছে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে যারা বিতর্কিত করেছে, তাদের জন্য এই প্রতিবাদ। নারীদের ক্ষেত্রে তাদের ক্ষমতায়ন বৃদ্ধির জন্য কাজ করে যাব সব সময়।

রাতেই তাহমিনা বেগমের বিজয়কে ঘিরে আনন্দ উল্লাস করেন দলীয় নেতা–কর্মীরা। পরে কর্মী-সমর্থকদের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।
মাগুরায় সাকিব এগিয়ে

মাগুরায় সাকিব এগিয়ে

সোনার বাংলা.২৪

মাগুরা-১ আসনে নৌকার প্রার্থী ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান বিপুল ভোটে এগিয়ে রয়েছেন। এ আসনের সাত কেন্দ্রের ফলাফলে সাকিব ১৫ হাজার ৫২৭ ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী কাজী রেজাউল হোসেন পেয়েছেন ৩৩১ ভোট।

এর আগে সকালে নিজের ভোটকেন্দ্র দরিমাগুরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সকাল ৮টার দিকে প্রথম ভোটটি দেন তিনি। এ সময় তার বাবা মাশরুর রেজা কুটিল ও তার ছোট বোন বৃষ্টি উপস্থিত ছিলেন।

মাগুরা -১ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান শিখর মাগুরা দুধমল্লিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে তার ভোট দেন। এ সময় তিনি বিএনপির অগ্নি সন্ত্রাস দেশের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে পারবে না বলে তিনি বলেন।

সাকিব আল হাসান ছাড়া এ আসনে জাতীয় পার্টির সিরাজুস সায়েফিন সাইফ, বাংলাদেশ কংগ্রেসের কাজী রেজাউল হোসেন, তৃণমূল বিএনপির সঞ্জয় কুমার রায়, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টির কে এম মোতাসিম বিল্লা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
সবাই অনেক চালাক, সকালে ভোট দিয়ে চলে গেছে : মাহি

সবাই অনেক চালাক, সকালে ভোট দিয়ে চলে গেছে : মাহি

সোনার বাংলা.২৪


শেষ বিকেলে ভোটার কমতি দেখে রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি বলেছেন, ‘সবাই অনেক চালাক। অনেক মা-বোনেরা আসলে সকালে ভোট দিয়ে চলে গেছেন। সারাদিন কী হয়, কী না হয়— এ ভেবে তারা সকাল সকাল ভোট দিয়ে চলে যায়।’

রবিবার (৭ জানুয়ারি) বিকেল চারটায় গোদাগাড়ী উপজেলার পিরিজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শেষে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মাহিয়া মাহি এসব কথা বলেন। মাহি রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) থেকে নির্বাচনে অংশ নেন।

মাহিয়া মাহি বলেন, ‘আমি তো আসলে এখন টেনশনের ভেতরে আছি। যেমন- একটা পরীক্ষার রেজাল্ট কিছুক্ষণ পরে দেওয়া হবে। এরকম একটা অবস্থার মধ্য দিয়ে আমার যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন একটা বড় লেসন লাইফের। কী করতে হবে, কীভাবে জনগণের কাছাকাছি যেতে হবে। শেখা উচিত আমার নির্বাচনী প্রচারণা থেকে। আমি তো ওরকম পুরোদস্তুর রাজনীতিবিদ না। সেইটা থেকেও আমি একদম সাধারণ জনগণের মাঝে মিশে গেছি, মানুষেরা আমাকে আপন করে নিয়েছিলেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘একটা এমপি যখন পাঁচ বছরের সময় পায়, অনেক বিশাল একটা সময়। সে সময়টাতে কিন্তু তার প্রত্যেকটা ভোটারের সাথে ব্যক্তিগত সম্পর্ক হয়ে যাওয়া উচিত। এট আসলে অনেকেই করে না। তারা আসলে মনে করে যে, ভোটের আগে ভোট চাইবো। আমি যখন ভোটারের কাছে আসছি, তারা আমাকে খুঁটি হিসেবে মনে করেছে। মানে খড়কুটো আঁকড়ে ধরে একটা বাঁচার আশা। আমি তাদের চোখেমুখে এই আশা দেখেছি।’

নির্বাচন প্রসঙ্গে মাহি বলেন, ‘দুই একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা আছে, তার মধ্যে কত ভোটারের উপস্থিতি হয়েছে সেটি এই মুহুর্তে বলা যাচ্ছে না। তবে সবাই অনেক চালাক। অনেক মা-বোনেরা আসলে সকালে ভোট দিয়ে চলে গেছেন। সারাদিন কী হয়, কী না হয়— এ ভেবে তারা সকাল সকাল ভোট দিয়ে চলে যায়।’

শেষ বিকেলের চিত্র দেখে আপনি হতাশ কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে মাহি বলেন, ‘আমি কেন্দ্রগুলোতে খোঁজ নিয়েছি। জানতে পেরেছি— সবাই সকালে ভোট দিয়ে চলে গেছে। বিকেল বেলার আসার কেউ নাই। যদি আমি দেখতাম সব ভরা (ভোটাররা) আছে, তাহলে মনটা একটু ভালো হতো।’
কামরাঙ্গা ফাজিল মাদরাসা কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী

কামরাঙ্গা ফাজিল মাদরাসা কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী

সোনার বাংলা.২৪

ছবিঃ সংগৃহীত 


চাঁদপুর সদর উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের কামরাঙ্গা ফাজিল মাদরাসা কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।রবিবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে নিজ গ্রাম রাঢ়ীরচর এলাকার এ কেন্দ্রে ভোট দিতে যান তিনি। এসময় মন্ত্রী নিজ এলাকার মহিলা ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেন ও তাদের খোঁজখবর নেন।

ভোট দেওয়ার পর শিক্ষামন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপি-জামায়াত নানা ষড়যন্ত্র করে ও গাড়িতে আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করে নির্বাচন বানচাল করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রে বিশ্বাসী, তারা আজ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিয়েছে।

দীপু মনি আরো বলেন, গত ১৫ বছর নির্বাচনী এলাকার জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে তাদের সেবা করার সুযোগ দিয়েছে। আমি সাধ্যমতো উন্নয়ন করার চেষ্টা করেছি। আশা করছি, এবারো লোকজন আমাকে নির্বাচিত করে সেবা করার সুযোগ দেবে, ভোটারদের প্রতি আমার সেই দৃঢ় বিশ্বাস আছে।

এসময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে : বিদেশি পর্যবেক্ষক

শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে : বিদেশি পর্যবেক্ষক

ছবিঃ সংগৃহীত 

ঢাকায় চলমান ভোটের পরিস্থিতি দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছে একদল বিদেশি পর্যবেক্ষক। তারা বলছেন, স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে।

রোববার (৭ জানুয়ারি) রাজধানীর দারুস সালাম বাংলাদেশ কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ভোট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ভোটের পরিস্থিতি এভাবে মূল্যায়ন করেন তিন বিদেশি পর্যবেক্ষক।

ডেপুটি হেড অব মিশন ইউএস এসটিও টেরি এল. ইসলে বলেন, ভোটের পরিবেশ ভালো। মানুষ ভোট দিতে আসছে। সবকিছু ভালো মনে হয়েছে। আশা করছি, শতকরা ৫০ ভাগ ভোট পড়বে। আর সেই অর্থে আমরা যে কেন্দ্রগুলো পর্যবেক্ষণ করেছি, সেগুলোতে কোনো ক্রুটি চোখে পড়েনি।

পলিটিকাল এডিটর আয়ারল্যান্ড নিকোলাস হুপাওয়াল বলেন, ভোটের পরিবেশ যতটা দেখেছি, শান্তিপূর্ণ এবং নিরাপদ। রাজনৈতিক অফিসের তুলনায় পোলিং স্টেশনের সংখ্যা কম মনে হয়েছে। পোলিং স্টেশন মাত্র ৪ হাজার, যেটা খুব নগণ্য মনে হয়েছে। সব মিলিয়ে আমার মনে হচ্ছে, সবকিছু শান্তিপূর্ণ।

এ পর্যবেক্ষক বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরাপদ নির্বাচন বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য একটি মাইলস্টোন হবে। আমাদের ম্যান্ডেট অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরাপদে ভোট হচ্ছে কি না সেটা পর্যবেক্ষণ করা। আমরা যেটা দেখেছি সেটা ভালো লেগেছে। তবে এখনো সময় বাকি রয়েছে। আমরা দেখব।

নারী ভোটারদের উপস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন নিকোলাস। তিনি বলেন, নারীরা ভোট দিচ্ছে। খুব বড় একটা সংখ্যা দেখেছি। নারীরা তাদের ভোট প্রয়োগ করছে।

জার্মান সমাজকর্মী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ভলকার ইউ ফ্রেডরিক বলেন, স্বচ্ছ নিয়ম মেনে ভোট হচ্ছে। ভোট গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা দেখিনি। আমরা এখানে ভোট দেখতে এসে খুশি। আমরা আরও অনেক ভোট কেন্দ্র ঘুরে দেখার বিষয়ে উদগ্রীব। ভোটের ফলাফল নিয়েও আমাদের আগ্রহ থাকবে।

এর আগে এ বিদেশি পর্যবেক্ষক দলটি বনানী বিদ্যানিকেতন ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন।
বরিশালের জনসভা মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী

বরিশালের জনসভা মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী

সোনার বাংলা.২৪
ছবিঃ সংগৃহীত 

আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরিশালের নির্বাচনী জনসভায় যোগ দিয়েছেন। শুক্রবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টায় জনসভাস্থল নগরীর বঙ্গবন্ধু উদ্যানে পৌঁছান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার ছোট বোন শেখ রেহানাও আছেন।

জনসভা মঞ্চে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে নেতাকর্মীরা তাদেরকে স্লোগান ও অভিবাদন বার্তায় বরণ করে নেন। ইতোমধ্যে বঙ্গবন্ধু উদ্যান কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেছে। জনসভায় বিভাগের নেতৃবৃন্দ, আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীরাসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দিচ্ছেন।

এর আগে দুপুর ১টার দিকে প্রধানমন্ত্রী বরিশালে পৌঁছে সার্কিট হাউসে আসেন। সেখানে মধ্যাহ্নভোজ ও বিশ্রাম শেষে বিকেল ৩টায় বঙ্গবন্ধু উদ্যানে জনসভায় যোগ দেন।

প্রধান অতিথি মঞ্চে আসন গ্রহণের পর আনুষ্ঠানিক পরিবেশনা শুরু হয়। কিছুক্ষণ পরে শেখ হাসিনা বক্তব্য দেবেন। সভায় সভাপতিত্ব করছেন বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ।

এদিকে আওয়ামী লীগ সভাপতির সফরকে ঘিরে দক্ষিণাঞ্চলের নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। শেখ হাসিনার জনসভায় যোগ দিতে সকাল থেকেই বঙ্গবন্ধু উদ্যানে আসতে শুরু করেন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা। নানা রঙের শাড়ি, রঙিন ক্যাপ-পোশাক পরে মাঠে আসেন দলীয় সমর্থকেরা। সঙ্গে ছিল ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড। বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে সমাবেশে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয়। দুপুর পৌনে ১টায় আনুষ্ঠানিকভাবে জনসভা শুরু হয়।

https://sonarbangla24com.blogspot.com/2023/12/blog-post_45.html
ক্ষেতে-খামারে নেমে নৌকায় ভোট চাচ্ছেন নাহিদ মোর্শেদ

ক্ষেতে-খামারে নেমে নৌকায় ভোট চাচ্ছেন নাহিদ মোর্শেদ

সোনার বাংলা.২৪ 
  
ছবিঃ ক্যামেরা 

মাঠে, ঘাটে, ময়দানে আর রাজপথে ছুটে বেড়াচ্ছেন সারা বাংলাদেশের নৌকার মাঝিরা। ব্যতিক্রম নয় নওগাঁ -৪ আসনও। তবে ব্যতিক্রম ধর্মী প্রচারণা করতে দেখা যাচ্ছে নওগাঁ -৪ নৌকার প্রার্থী মান্দা উপজেলা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ নাহিদ মোর্শেদ।

তিনি গ্রামে গ্রামে প্রচারণার সময় ক্ষেত খামারে নেমে নেমে কৃষক আর শ্রমিকের কাছে গিয়ে নৌকার ভোট চাচ্ছেন। তাদের কাছে তুলে ধরছেন দেশের উন্নয়ন, উন্নয়নের ধারাকে অব্যহত রাখতে আবারও বঙ্গবন্ধুর কণ্যা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে নৌকা প্রতীকে বিজয়ী করার আহবান জানাচ্ছেন। 

২৫ ডিসেম্বর (সোমবার) মান্দা উপজেলার ১২ নং কাঁশো পাড়া ইউনিয়নে আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নওগাঁ -৪ আসন নির্বাচনী গণসংযোগ করা কালীন এমন দৃশ্য চোখে পড়ে গণমাধ্যমকর্মীদের। 

নির্বাচনী প্রচারণা ও গণসংযোগকালে নাহিদ মোর্শেদ বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্নে বিভোর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ পরিচালনায় সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন। আমাদের সকলের প্রিয় জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমিও যেন আজীবন আপনাদের সেবায় কাজ করে যেতে পারি। আর সে কারনেই মান্দার সার্বিক উন্নয়ন করতে জননেত্রী শেখ হাসিনার নৌকায় ভোট দিয়ে বিজয়ী করুন।

তিনি বলেন, আমাদের শত্রু হচ্ছে বিএনপি জামাত, তারা এবং তাদের দোসরদের সাথে যারা সংগ দিচ্ছেন, তারা আওয়ামী লীগ হতে পারে না। প্রকৃত আওয়ামী লীগ দলের বিপক্ষে আর নৌকার বিপক্ষে কখনও যেতে পারে না। আওয়ামী লীগ এমন একটি দল, যারা দেশকে স্বাধীন করেছে, এই ভুখন্ডের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে, দিয়ে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ একাও পথ চলতে পারে, সেটা অতীতে বহুবার দেখিয়েছে, দেখাচ্ছে। সেকারনে দেশকে, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে, দেশের উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে অবশ্যই নৌকার পক্ষে থাকতে হবে। 

জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির মহানায়ক। তিনি আমাদের বিশ্ব দরবারে মর্যাদার আসনে বসিয়েছেন। তাঁর পাশে থেকে সকল অপশক্তিকে আমাদের মোকাবেলা করতে হবে। 

আপনারা আগামী ৭ জানুয়ারী সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে নৌকার পক্ষে ভোট দিন। বিপুল ভোটে নৌকা মার্কাকে বিজয়ী করে আমাকে মান্দা বাসীর সেবা করার সুযোগ দিন এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে এ আসনটি উপহার দিন। 
ছবিঃ ক্যামেরা


এসময় তার সাথে ১২ নং কাঁশো পাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব রশিদ মল্লিক ,এবং ডাঃ মোঃ মাসুদ রানা নাহিদ ৯ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক 
সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও বিপুল পরিমাণ সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

সোনার বাংলা. ২৪ 
মোঃ আব্দুর রশিদ 
নৌকার ভোট চাইতে লোকজনের কাছে জাচ্ছেন

নৌকার ভোট চাইতে লোকজনের কাছে জাচ্ছেন

সোনার বাংলা ২৪
ছবিঃ কামেরা 


দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৪৯, নওগাঁ ৪,মান্দা আসনে 
মোঃ নাহিদ মোর্শেদ 
কে বিজয় করার লক্ষে 
পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে ভোট চাচ্ছেন 
১২ নং কাঁশো পাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সংগ্রামী সাধারণ সম্পাদক 
ইয়াকুব রশিদ মল্লিক 
এবং ৯ ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের 
সংগ্রামী সাধারণ সম্পাদক 
রাজা কবিরাজ 
আরো আওয়ামী পরিবারের নেতা কর্মী 
ইয়াকুব রশিদ মল্লিক 
সোনার বাংলা.২৪ বলেন আমরা নাহিদ ভাইকে 
বিজয় করবো এবং মাঠে আছি মাঠে থাকবো 
বিজয় করে ঘরে উঠবো 
এই আশা নিয়ে আমরা লোকজনের কাছে 
জাচ্ছি 
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ১২ নং কাঁশো পাড়া ইউনিয়ন শাখা,র উদ্যোগে বর্ধিত সভা

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ১২ নং কাঁশো পাড়া ইউনিয়ন শাখা,র উদ্যোগে বর্ধিত সভা

সোনার বাংলা ২৪

ছবিঃ ক্যামেরা 


১৪ য়ে ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবস ও
১৬ য়ে ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে 
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ১২ নং কাঁশো পাড়া ইউনিয়ন শাখা,র উদ্যোগে 
বিশেষ বর্ধিত সভা 



আওয়ামী লীগে একক নিয়ন্ত্রণ, বিএনপিতে বিরোধ

আওয়ামী লীগে একক নিয়ন্ত্রণ, বিএনপিতে বিরোধ

আওয়ামী লীগে একক নিয়ন্ত্রণ, বিএনপিতে বিরোধ

র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সংসদ সদস্য

 

র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সংসদ সদস্য

২০১৪ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সাত বছর এককাট্টাই ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। কিন্তু ২০২২ সালে জেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুজনের দূরত্ব তৈরি হয়। এরপর সময় যত গেছে, শীর্ষ দুই নেতার বিরোধ ততই বেড়েছে। এরই মধ্যে সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকারের মৃত্যুতে পাল্টে যায় জেলার আওয়ামী লীগের রাজনীতির চিত্র। এখন সভাপতির হাতেই দলের নিয়ন্ত্রণ।


অন্যদিকে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিএনপি এখন দুই পক্ষের কোন্দলে বিপর্যস্ত। সরকারবিরোধী আন্দোলনের চেয়ে সংগঠনের নেতা-কর্মীরা একে অপরের বিরুদ্ধে কর্মসূচি নিয়েই বেশি ব্যস্ত। আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার পর থেকে দুই পক্ষ দলীয় কর্মসূচিও পালন করছে পৃথকভাবে। এ নিয়ে তৃণমূলের নেতা–কর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে হতাশা।




১১ মাসেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি আ.লীগের

জেলা আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় আট বছর পর গত বছরের ১২ নভেম্বর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। কমিটিতে সভাপতি হিসেবে আবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আল মামুন সরকারের নাম ঘোষণা করা হয়। এ ছাড়া জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি হিসেবে হেলাল উদ্দিন, সহসভাপতি হিসেবে মো. হেলাল উদ্দিন ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মাহবুবুল বারী চৌধুরীর নাম ঘোষণা করা হয়। সম্মেলনে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে আলোচনা করে এক মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু দুই শীর্ষ নেতার দ্বন্দ্বের কারণেই দীর্ঘ প্রায় ১১ মাসেও জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি।


আল মামুন সরকার ২ অক্টোবর সকালে মারা যান। তিনি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পরদিন সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল বারী চৌধুরীকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়ার ঘোষণা দেন সভাপতি মোকতাদির চৌধুরী। মাহবুবুল বারী সংসদ সদস্য মোকতাদির চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত।



হাফিজুর রহমান মোল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য


হাফিজুর রহমান মোল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে মাহবুবুল বারী চৌধুরীর নাম কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কাছে সুপারিশ করতে পারেন মোকতাদির চৌধুরী। কিন্তু তাঁকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিতে পারেন না। এটির এখতিয়ার দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতির।


এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন প্রথম আলোকে বলেন, জেলা সভাপতি প্রাথমিকভাবে কাজ করার জন্য মাহবুবুল বারী চৌধুরীকে দায়িত্ব দিয়েছেন। তিনি আপাতত কাজ করুক। দলের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে।


জেলা আওয়ামী লীগের চারজন নেতা বলেন, মূলত জেলা পরিষদের নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই প্রয়াত আল মামুন সরকারের সঙ্গে মোকতাদির চৌধুরীর বিরোধ বাড়তে থাকে। এরপর সম্মেলন ও কমিটি গঠন থেকে শুরু করে নানা ক্ষেত্রে তাঁদের বিরোধ বেড়েছে। আল মামুন সরকার একপ্রকার কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন। রাগ-অভিমানে দলীয় অনেক সভা-অনুষ্ঠানে যোগ দেননি। তবে জেলা আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয় দলের সভাপতি মোকতাদির চৌধুরীর নির্দেশনাতেই।



জেলা আওয়ামী লীগে আলোচনা রয়েছে, সম্মেলনের পর সভাপতি ও সদ্য প্রয়াত সাধারণ সম্পাদক অনুমোদনের জন্য কেন্দ্রের কাছে পৃথক পৃথক পূর্ণাঙ্গ কমিটি জমা দিয়েছিলেন। যে কারণেই আটকে যায় কমিটি। তবে পৃথক কমিটি জমা দেওয়ার তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন মোকতাদির চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘আমি কারও কাছে কোনো কমিটি জমা দিইনি। যদি কেউ এটা বলে থাকেন, মিথ্যাচার করেছেন। মৃত ব্যক্তি সম্পর্কে কোনো কথা বলতে চাচ্ছি না। আর সবাই জানেন মিথ্যাচার ও প্রতারণা করি না।’ তিনি দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী আল মামুন সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিলেন মোকতাদির চৌধুরী সঙ্গে বসে কমিটি করতে। অনেক কিছু নিয়ে বসা হলেও কমিটি নিয়ে বসা হয়নি। নানান কারণে মতপার্থক্য থাকতে পারে। কিন্তু এর অর্থ এই না বিরোধ ছিল।


জেলা আওয়ামী লীগের চার সদস্যের কমিটির পাশাপাশি সদর, বিজয়নগর ও বাঞ্ছারামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি রয়েছে। অন্য উপজেলাগুলোতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি নেই। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় নয়টি উপজেলা নিয়ে ছয়টি সংসদীয় আসন। এর মধ্যে পাঁচটিতে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য রয়েছেন। প্রতিটি আসনেই দলের একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকায় তৃণমূলেও কোন্দল বাড়ছে বলে জানিয়েছেন নেতা-কর্মীরা।


দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনগুলোরও হালনাগাদ কমিটি নেই। জেলা যুবলীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয়েছিল ১৯ বছর আগে। জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের ৯ বছর আগে, জেলা যুব মহিলা লীগের ৯ বছর আগে, জেলা মহিলা লীগের ৭ বছর আগে ও জেলা কৃষক লীগের ৬ বছর আগে সম্মেলন হয়েছিল। ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল প্রায় ছয় বছর আগে। উপজেলা পর্যায়েও সংগঠনগুলোর অবস্থা একই রকম।


তবে মোকতাদির চৌধুরী বলেন, দলের সাংগঠনিক অবস্থা খুবই ভালো। নির্বাচনের প্রস্তুতিও ভালো। অঙ্গসংগঠনগুলোর সারা দেশে যা অবস্থা ব্রাহ্মণবাড়িয়াতেও তাই।


সিরাজুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সদস্যসচিব



সিরাজুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সদস্যসচিব

বিএনপিতে দ্বন্দ্ব-সংঘাত

জেলা বিএনপির সাংগঠনিক বিপর্যয় শুরু মূলত ২০১৯ সালের জুলাইয়ে। সর্বশেষ জেলা বিএনপির পাঁচ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্ব ও সংঘাত দেখা দেয়। পাঁচ সদস্যের কমিটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। বর্তমানে দলের প্রায় সব কর্মসূচি হচ্ছে পৃথকভাবে।


দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ আগস্ট ঘোষিত কমিটিতে জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি আবদুল মান্নানকে আহ্বায়ক এবং জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুল ইসলামকে সদস্যসচিব করা হয়। জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও আগের কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য হাফিজুর রহমান মোল্লা, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও আগের কমিটির সদস্য জহিরুল হক এবং সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নূরে আলম সিদ্দিকীকে সদস্য করা হয়।


বর্তমানে এই কমিটির আবদুল মান্নান ও সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি পক্ষ এবং হাফিজুর রহমান ও জহিরুল ইসলামের নেতৃত্বে আরেক পক্ষ পৃথকভাবে দলীয় কর্মসূচি পালন করছেন। কমিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভও হচ্ছে। গত ১২ আগস্ট শহরের পাওয়ার হাউস রোড এলাকায় দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।


কিন্তু বিএনপির নেতা হাফিজুর রহমান মোল্লা বলেন, বিগত দিনে জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে যাঁরা নির্বাচনে করেছেন, তাঁরা এই জেলার অভিভাবক। তাঁদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই এই কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।


এদিকে বিএনপির একটি পক্ষের নেতাদের অভিযোগ, জেলা বিএনপির কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্ব-সংঘাতের পেছনে রয়েছেন সদর উপজেলার বরিশল গ্রামের কবির আহমেদ ভূঁইয়া। তিনি লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ব্যক্তিগত সহকারী আবদুর রহমানের বড় ভাই। কোনো পদে না থেকেও ছোট ভাইয়ের প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে জেলার বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন ইউনিটের কমিটি গঠনে হস্তক্ষেপ করেন। এ নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে নানা সময় বিক্ষোভ, ঝাড়ুমিছিলের ঘটনাও ঘটেছে। বিভিন্ন কমিটি থেকে বিএনপি ও যুবদলের অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী পদত্যাগও করেছেন।


বিএনপি নির্বাচনে গেলে কবির ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হবেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। কবিরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ২০১৯ সালের ১৭ জুলাই বিএনপির মহাসচিব, ২০২২ সালের ২ এপ্রিল ও ১৫ নভেম্বর দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বরাবর আখাউড়ার বিএনপির তিন নেতা অভিযোগ করেন।


তবে একাধিকবার চেষ্টা করেও মুঠোফোন বন্ধ পাওয়ায় কবির আহমেদ ভূঁইয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। হোয়াটসঅ্যাপে খুদে বার্তা পাঠালে তিনি দেশের বাইরে থাকার কথা উল্লেখ করে দেশে এসে কথা বলবেন বলে জবাব দেন।


নতুন আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব সিরাজুল ইসলাম সোনার বাংলা ২৪ কে বলেন, একটা বড় দলে মান-অভিমান থাকতেই পারে। এটাই বাস্তবতা। পূর্ণাঙ্গ কমিটি হলে সব ঠিক হয়ে যাবে। আর এই কমিটি না মানার অর্থ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে না মানা।


কেন্দ্রীয় বিএনপির অর্থনীতিবিষয়ক সম্পাদক খালেদ হোসেন মাহবুব সোনার বাংলা ২৪ কে বলেন, মাঠের বাস্তবতা হয়তো ভিন্ন থাকে। তবে কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।